২০২৬ গাংনেউং-ধাঁচের ওয়েলনেস পর্যটন পরিচালনা সহায়তা কর্মসূচির আওতায় গাংনেউং শহরের আয়োজন… ড্রিপ কফি থেকে তিরন্দাজি পর্যন্ত ৪টি থিমের অভিজ্ঞতা বুথ

গাংওন প্রদেশের গাংনেউং শহর ৩ তারিখ দুপুর ২টা থেকে বিকেল ৫টা ৩০ মিনিট পর্যন্ত ছোদাংদংয়ে অবস্থিত হো গিউন ও হো নানসোলহোনের জন্মভিটার আশপাশে ওয়েলনেস পর্যটন প্রচার অনুষ্ঠান ‘গাংনেউং ওয়েলনেস ডে’ আয়োজন করবে। শহর কর্তৃপক্ষ ২ তারিখ এ পরিকল্পনার কথা জানিয়েছে। ২০২৬ গাংনেউং-ধাঁচের ওয়েলনেস পর্যটন পরিচালনা সহায়তা কর্মসূচির অংশ হিসেবে স্থানীয় ওয়েলনেস পর্যটন প্রতিষ্ঠানগুলোর সহযোগিতায় অনুষ্ঠানটি আয়োজন করা হয়েছে। এতে আগাম নিবন্ধনকারীদের জন্য বনভূমিতে হিলিং যোগ ও সিংগিং বোল মেডিটেশন থাকবে। পাশাপাশি, যেকোনো দর্শনার্থী অংশ নিতে পারবেন—এমন ৪টি থিমের অভিজ্ঞতা বুথও থাকবে।
গাংনেউং ওয়েলনেস ডে: গাংনেউংয়ের ভাবমূর্তি দেশ-বিদেশে তুলে ধরতে ওয়েলনেস পর্যটনের প্রসার
গাংনেউং ওয়েলনেস ডে ৩ তারিখ দুপুর ২টায় শুরু হয়ে বিকেল ৫টা ৩০ মিনিট পর্যন্ত মোট ৩ ঘণ্টা ৩০ মিনিট চলবে। অনুষ্ঠানস্থল গাংনেউং শহরের ছোদাংদংয়ে অবস্থিত হো গিউন ও হো নানসোলহোনের জন্মভিটার আশপাশ। আয়োজক গাংনেউং শহর কর্তৃপক্ষ; স্থানীয় ওয়েলনেস পর্যটন প্রতিষ্ঠানগুলোর সহযোগিতায় অনুষ্ঠানটি বাস্তবায়ন করা হবে।
শহর কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, গাংনেউংয়ের প্রাকৃতিক ও সাংস্কৃতিক সম্পদ এবং বিভিন্ন অভিজ্ঞতার উপকরণ কাজে লাগিয়ে ওয়েলনেস পর্যটনের প্রসার ঘটানো এবং ‘আরোগ্য ও পুনরুজ্জীবনের শহর গাংনেউং’—এই ভাবমূর্তি দেশ-বিদেশে তুলে ধরতেই অনুষ্ঠানটির পরিকল্পনা করা হয়েছে।
বনভূমিতে হিলিং যোগ ও সিংগিং বোল মেডিটেশনে অংশ নিতে আগাম নিবন্ধন প্রয়োজন
প্রধান কর্মসূচির মধ্যে রয়েছে বনভূমিতে হিলিং যোগ ও সিংগিং বোল মেডিটেশন। দুটি কর্মসূচিই জন্মভিটার আশপাশের প্রাকৃতিক পরিবেশে অনুষ্ঠিত হবে এবং কেবল আগাম নিবন্ধন করা অংশগ্রহণকারীরা এতে যোগ দিতে পারবেন। সিংগিং বোল মেডিটেশনে ধাতব বাটির মতো দেখতে বাদ্যযন্ত্র সিংগিং বোল বাজিয়ে তৈরি হওয়া শব্দ ও কম্পনের প্রতি মনোযোগ দিয়ে ধ্যান করা হয়।
শহর কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, দুটি কর্মসূচির মাধ্যমে প্রকৃতির মধ্যে শরীর ও মনের স্থিরতা খুঁজে পাওয়ার সুযোগ তৈরি হবে। তবে প্রতিটি কর্মসূচির বিস্তারিত সময়সূচি, অংশগ্রহণকারীর সংখ্যা এবং আগাম নিবন্ধনের পদ্ধতি সংক্রান্ত তথ্য প্রকাশিত প্রতিবেদনে পাওয়া যায়নি।
সবার জন্য ৪টি থিমের অভিজ্ঞতা বুথ
অনুষ্ঠানস্থলে আগাম নিবন্ধন ছাড়াই যেকোনো দর্শনার্থী ব্যবহার করতে পারবেন—এমন ৪টি থিমের অভিজ্ঞতা বুথ থাকবে। ‘এক কাপ অবসর’ বুথে ড্রিপ কফি পান করে দেখার সুযোগ থাকবে। ‘মন ভরানো’ বুথে রত্নের রঙভিত্তিক কালার থেরাপি উপভোগ করা যাবে। ‘একান্ত মনোযোগ’ বুথে থাকবে তিরন্দাজির অভিজ্ঞতা। আর ‘পাঁচ ইন্দ্রিয়ের তৃপ্তি’ বুথে থাকবে গাংনেউং হানগোয়া স্বাদ নেওয়ার ব্যবস্থা।
কফি ও হানগোয়াকে গাংনেউংয়ের প্রতিনিধিত্বকারী খাবার হিসেবে বিবেচনা করা হয়। শহর কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, স্থানীয় সম্পদকে ওয়েলনেস কনটেন্টের সঙ্গে যুক্ত করে বুথগুলো সাজানো হয়েছে, যাতে দর্শনার্থীরা পাঁচ ইন্দ্রিয় দিয়ে গাংনেউংয়ের নিজস্ব ওয়েলনেস অভিজ্ঞতা নিতে পারেন।
অনুষ্ঠানস্থল হো গিউন ও হো নানসোলহোনের জন্মভিটা এবং পাইনবন
অনুষ্ঠানস্থল ছোদাংদং এলাকা হো গিউন—যিনি ‘হং গিলদংচন’ লিখেছিলেন—এবং জোসন যুগের কবি হো নানসোলহোন, এই ভাই-বোনকে স্মরণে গড়ে ওঠা হো গিউন ও হো নানসোলহোন স্মৃতি উদ্যানের অবস্থানস্থল। কোরিয়া ট্যুরিজম অর্গানাইজেশনের পর্যটন তথ্য অনুযায়ী, উদ্যানটি হো নানসোলহোনের জন্মভিটার স্থান, হো গিউন ও হো নানসোলহোন স্মৃতি জাদুঘর এবং ঐতিহ্যবাহী চা অভিজ্ঞতা কেন্দ্র নিয়ে গঠিত। ২০০১ সালে পুনর্নির্মিত জন্মভিটার স্থানটি উঁচু প্রধান ফটক, অতিথি-কক্ষ ও মূল বসতবাড়িসহ অভিজাত সরকারি কর্মকর্তার পরিবারের ঐতিহ্যবাহী কোরীয় বাড়ির আদলে নির্মিত। এটি গাংওন প্রদেশের সাংস্কৃতিক সম্পদ হিসেবে স্বীকৃত।
জন্মভিটার স্থান ঘিরে থাকা পাইনগাছের সমষ্টিকে হো নানসোলহোনের পাইনবন বলা হয়। ২০১০ সালে লাইফ ফরেস্ট, ইউহান-কিম্বারলি এবং কোরিয়া ফরেস্ট সার্ভিস যৌথভাবে আয়োজিত জাতীয় সুন্দর বন প্রতিযোগিতায় এই বন পুরস্কার পেয়েছিল। স্মৃতি উদ্যানটি সারা বছর খোলা থাকে এবং প্রবেশমূল্য নেই।


টেম্পলস্টে থেকে ৬টি থিমে বিস্তৃত গাংনেউং-ধাঁচের ওয়েলনেস পর্যটন
এবারের অনুষ্ঠানের ভিত্তি হিসেবে থাকা গাংনেউং-ধাঁচের ওয়েলনেস পর্যটন পরিচালনা সহায়তা কর্মসূচি গাংনেউং শহর কর্তৃপক্ষের উচ্চমূল্যের পর্যটনশিল্প গড়ে তোলার লক্ষ্যে পরিচালিত একটি উদ্যোগ। শহর কর্তৃপক্ষ জানিয়েছিল, গত বছর স্থানীয় ২টি মন্দিরের ওয়েলনেস পর্যটন পরিচালনায় সহায়তা দেওয়া হয়েছিল। মন্দিরের খাবারের অভিজ্ঞতা এবং পাইনসুগন্ধি হিলিং সমুদ্রসৈকতপথে হাঁটাসহ বিভিন্ন কর্মসূচিতে সাজানো টেম্পলস্টেতে প্রায় ৩,৫০০ জন অংশ নিয়েছিলেন।
এ বছর সহায়তার পরিধি টেম্পলস্টে-কেন্দ্রিক কর্মসূচি থেকে বাড়িয়ে হিলিং মেডিটেশন, বিউটি স্পা, প্রাকৃতিক আরোগ্য, খাবার, কোরীয় ভেষজ চিকিৎসা এবং থাকার ব্যবস্থা—এই ৬টি থিমে সম্প্রসারিত করা হয়েছে। শহর কর্তৃপক্ষ ২৭ এপ্রিল থেকে ৮ মে পর্যন্ত অংশগ্রহণকারী প্রতিষ্ঠানগুলোর জন্য আবেদন আহ্বান করে। এরপর ৩টি প্রতিষ্ঠান নির্বাচন করে প্রতিটি প্রতিষ্ঠানকে সর্বোচ্চ ৫০ লাখ ওন সহায়তা এবং অনলাইন ও অফলাইন প্রচার দেওয়ার পরিকল্পনা প্রকাশ করা হয়।
গাংনেউং শহর কর্তৃপক্ষ: “পাঁচ ইন্দ্রিয় দিয়ে আরোগ্য লাভের শহর গড়ে তুলব”
গাংনেউং শহরের পর্যটননীতি বিভাগের প্রধান বে গোয়াংসিক বলেন, গাংনেউং ওয়েলনেস ডে এমনভাবে প্রস্তুত করা হয়েছে, যাতে মানুষ গাংনেউংয়ের প্রকৃতি, সংস্কৃতি ও বিভিন্ন অভিজ্ঞতার উপকরণ পাঁচ ইন্দ্রিয় দিয়ে উপভোগ করে দৈনন্দিন জীবনে বিশ্রামের সুযোগ পান। তিনি বলেন, “পাঁচ ইন্দ্রিয় দিয়ে আরোগ্য লাভের শহর গাংনেউং গড়ে তুলতে আমরা ভবিষ্যতেও ওয়েলনেস পর্যটনের প্রসারে ধারাবাহিকভাবে কাজ করে যাব।”
