
২০০৩ সালের চলচ্চিত্র ‘মাই টিউটর ফ্রেন্ড’-এর OST ‘ইয়েগাম’-এ কণ্ঠ দেওয়া ম্যাগো ২০ বছরেরও বেশি সময় পর আবারও ‘ইন্টার্ন’ ছবির সংগীতের মাধ্যমে দর্শকদের সামনে আসছেন।
২০ বছরেরও বেশি আগে ‘মাই টিউটর ফ্রেন্ড’ ছবির শেষভাগে শোনা গিয়েছিল ম্যাগোর কণ্ঠ। আর ২০২৬ সালে ‘ইন্টার্ন’ ছবিতে বয়ে যাবে ম্যাগো সাউন্ডের সংগীত।
কণ্ঠশিল্পী ম্যাগো, হ্যান্ডপ্যানশিল্পী সিয়ন, সিনথেসাইজারশিল্পী সং সু-জং এবং পারকাশনশিল্পী জো জং-উককে নিয়ে গঠিত ম্যাগো সাউন্ড (MAGO SOUND) ধ্যান ও সংগীত, শ্বাস-প্রশ্বাস ও শরীরের নড়াচড়াকে এক প্রবাহে যুক্ত করে নিজেদের স্বতন্ত্র সংগীতজগৎ গড়ে তুলেছে।
তাদের সংগীতের বক্তব্য জাঁকজমকপূর্ণ কৌশল বা তীব্র উদ্দীপনার চেয়ে কিছুটা আলাদা। ‘বাইরে ছড়িয়ে পড়া পরিবেশনা নয়, বরং নিজের ভেতরে প্রবেশ করানো পরিবেশনা’—এই একটি বাক্যই সংগীতকে দেখার ক্ষেত্রে ম্যাগো সাউন্ডের দৃষ্টিভঙ্গি স্পষ্ট করে। ম্যাগো সাউন্ড এই দর্শনকে শুধু সংগীতের মধ্যে সীমাবদ্ধ রাখেনি; পরিবেশনার ধরনেও তা বিস্তৃত করেছে।

ধ্যান ও ওয়েলনেস সংগীতে ‘সাইলেন্ট লাইভ(Silent Live)’ যুক্ত করেছে
দেশের ধ্যান ও ওয়েলনেস সাইলেন্ট লাইভের প্রথম প্রজন্মের পথিকৃৎ হিসেবে ম্যাগো সাউন্ড দর্শকদের তারহীন হেডফোন পরে সরাসরি লাইভ পরিবেশনা শোনার ‘সাইলেন্ট লাইভ (Silent Live)’ পদ্ধতিকে ধ্যান ও ওয়েলনেস সংগীতের সঙ্গে যুক্ত করে নিজেদের স্বতন্ত্র সাউন্ড তৈরি করেছে।
এটি শুধু প্রচলিত পরিবেশনার শব্দ হেডফোনে তুলে দেওয়া নয়। সাধারণ পরিবেশনা যেখানে পুরো স্থানজুড়ে শব্দ পৌঁছে দেয়, সেখানে ম্যাগো সাউন্ডের সাইলেন্ট লাইভ হেডফোনের মাধ্যমে কণ্ঠের ক্ষীণ নিঃশ্বাস থেকে বাদ্যযন্ত্রের সূক্ষ্ম অনুরণন পর্যন্ত আরও কাছ থেকে শ্রোতার কাছে পৌঁছে দেয়।
যেন কোনো গায়ক স্টুডিওতে হেডফোন পরে নিজের কণ্ঠ এবং বাদ্যযন্ত্রের ক্ষুদ্রতম শব্দও গভীর মনোযোগে শুনছেন—দর্শকরাও তেমনি সংগীতের ভেতরে আরও এক ধাপ গভীরে প্রবেশ করেন।
একই স্থানে সবাই মিলে সংগীত শুনলেও সেই মুহূর্তে প্রত্যেকে নিজের অন্তর্জগতের দিকে ফিরে যান। এ কারণেই ম্যাগো সাউন্ড সংগীতকে শুধু ‘শোনা’র মধ্যে সীমাবদ্ধ না রেখে একটি ‘অভিজ্ঞতা’ হিসেবে দেখে।
তাদের সংগীতের দিকনির্দেশনা স্পষ্ট ও একনিষ্ঠ। শব্দের মাধ্যমে নিজের ভেতরে ফিরে যাওয়ার পথ তৈরি করা এবং আরোগ্যকে কোনো বিশেষ দিনের বিষয় না রেখে জীবনের অংশ করে তোলা।

‘টেকসই ওয়েলনেস সংগীত’ প্রকাশিত হবে ‘ইন্টার্ন’ ছবিতে।
কিছুক্ষণ থেমে শ্বাস নেওয়া এবং নিজের ভেতরের শব্দের দিকে তাকানোর সময়। ম্যাগো সাউন্ড যে ‘টেকসই ওয়েলনেস সংগীতের’ কথা বলে, তার সূচনাও ঠিক সেখানেই। এবার সেই সংগীত পরিবেশনার স্থান পেরিয়ে প্রেক্ষাগৃহে দর্শকদের কাছে পৌঁছাবে।
উষ্ণ মানবিকতায় ভরা ‘ইন্টার্ন’ ছবিটি মানুষে মানুষে সম্পর্ক ও অনুভূতির গল্প অনুসরণ করে। সেই গল্পের ভেতর কোনো এক মুহূর্তে ম্যাগো সাউন্ডের সংগীতও নীরবে মিশে যায়।
ম্যাগো সাউন্ড জানিয়েছে, কোন দৃশ্যে এবং কী আবহে তাদের সংগীত দর্শকদের কাছে পৌঁছাবে, তা জানতে ছবিটি দেখার পরামর্শই তারা দিচ্ছে। গল্প অনুসরণ করতে করতে হঠাৎ কোনো সুর মনে থেকে গেলে কিছুক্ষণ মন দিয়ে তা শোনার আহ্বানও জানিয়েছে দলটি। তারা আরও বলেছে, তখন হয়তো এমন একটি মুহূর্ত আসবে, যখন দর্শক বুঝতে পারবেন—‘আহা, এটাই তো ম্যাগো সাউন্ডের সংগীত।’
এই ছবিতে আরও একটি ছোট চমক লুকিয়ে আছে। ম্যাগো ও ম্যাগো সাউন্ডের সদস্যরা ছবিতে খুব অল্প সময়ের জন্য পর্দায় দেখা দেবেন।
তারা কোথায় হাজির হন, তা ছবিতেই সরাসরি খুঁজে নেওয়া যাবে। লুকানো ছবি খোঁজার মতো পর্দার কোনো এক কোণে থাকা ম্যাগো সাউন্ডকে আবিষ্কার করাও ‘ইন্টার্ন’ উপভোগের একটি ছোট আনন্দ।
ছবির ভেতর হঠাৎ আবিষ্কৃত কোনো দৃশ্যের মতোই ম্যাগো সাউন্ডের সংগীতও কোনো এক মুহূর্তে নীরবে মনের কাছে পৌঁছানোর অভিজ্ঞতা দেবে। ‘ইন্টার্ন’ ছবিতে এবার সেই শব্দ ও উপস্থিতি দর্শক নিজেরাই আবিষ্কার করতে পারবেন।

ম্যাগো সাউন্ড পরিচিতি
ম্যাগো সাউন্ড (MAGO SOUND) একটি ব্যান্ড, যেখানে কণ্ঠ, সুরসৃষ্টি, বাদ্যযন্ত্র পরিবেশনা ও প্রযোজনাসহ সংগীতের বিভিন্ন ক্ষেত্রের পেশাদাররা একত্রিত হয়েছেন। এটি সংগীতকে কেন্দ্র করে নানা শিল্পভিত্তিক অভিজ্ঞতা তৈরি করা একটি ব্র্যান্ড এবং ক্রিয়েটর গ্রুপও। সরাসরি সংগীত তৈরি ও পরিবেশনকারী শিল্পীসমষ্টির ভিত্তিতে দলটি নিজস্ব গান তৈরির পাশাপাশি চলচ্চিত্র, ধারাবাহিক ও ভিডিওর সংগীত পরিকল্পনা ও প্রযোজনা করে। বিভিন্ন শিল্পক্ষেত্রের সঙ্গে সহযোগিতার মাধ্যমে তারা পরিবেশনা-ভিত্তিক কনটেন্টও উপস্থাপন করে।
এ ছাড়া সংগীতের সংবেদনশীল ও আবেগগত অভিজ্ঞতাকে ওয়েলনেসের পরিসরে বিস্তৃত করে ধ্যান, শরীরের নড়াচড়া, স্থান ও সংগীতকে যুক্ত করা সংগীতভিত্তিক ওয়েলনেস কনটেন্ট পরিকল্পনা ও প্রযোজনা করে। বিশেষ করে লাইভ পরিবেশনায় তারহীন হেডফোন ব্যবস্থা যুক্ত করে ‘সাইলেন্ট লাইভ (Silent Live)’-এর মাধ্যমে দর্শকদের শব্দ ও সংগীতে আরও গভীরভাবে নিমগ্ন হওয়ার সুযোগ তৈরি করছে দলটি।
সংবাদসংক্রান্ত যোগাযোগ fare3041@naver.com
