
দক্ষিণ গিয়ংসাং প্রদেশের গিমহে শহরের হাপোচন জলাভূমি বিজ্ঞানকেন্দ্রের প্রথম বর্ষপূর্তি উপলক্ষে গত ১১ তারিখে জলাভূমির শব্দ শোনার ধ্যান কর্মসূচি আয়োজন করা হয়। পরিবেশ-সংস্কৃতির অভিজ্ঞতা নেওয়ার সুযোগ বাড়ানোর উদ্দেশ্যে এ কর্মসূচি চালু করা হয়েছে বলে ১৫ তারিখে জানিয়েছে গিমহে সিটি।
বাতাস ও পাখির ডাকে মিশল আরোগ্যসংগীত
১০ অক্টোবর আয়োজিত কর্মসূচিটির নাম ছিল ‘হাপোচনের নীরবতা শুনুন’। আরোগ্যসংগীতশিল্পী বমুনবিয়লের সঙ্গে বিশেষ এই ধ্যানের আয়োজন করা হয়েছিল হাপোচন জলাভূমির প্রাকৃতিক পরিবেশের সঙ্গে মানানসই করে। জলাভূমির ওপর দিয়ে বয়ে যাওয়া বাতাস ও পাখির ডাকের মতো প্রাকৃতিক শব্দের সঙ্গে আরোগ্যসংগীত মিলিয়ে দেওয়া হয়, যাতে অংশগ্রহণকারীরা দৈনন্দিন জীবন থেকে কিছুক্ষণের জন্য দূরে সরে শরীর ও মনে স্বস্তি ফিরে পান।
গিমহে সিটি জানায়, এই ধ্যান কর্মসূচি দেখিয়েছে যে হাপোচন জলাভূমি শুধু বাস্তুতন্ত্র পর্যবেক্ষণ ও শেখার জায়গা নয়; প্রকৃতির মাঝে বিশ্রাম ও পুনরুজ্জীবনের অভিজ্ঞতা নেওয়ারও স্থান।
প্রকৃতির শব্দ ও আরোগ্যসংগীতের মেলবন্ধনে ধ্যানের অভিজ্ঞতায় সন্তুষ্ট অংশগ্রহণকারীরা
প্রকৃতির শব্দ ও আরোগ্যসংগীতের মেলবন্ধনে ধ্যানের অভিজ্ঞতা নিয়ে অংশগ্রহণকারীরা উচ্চ সন্তুষ্টি প্রকাশ করেছেন। কর্মসূচির সময় বাড়ানো এবং নিয়মিত আয়োজনের দাবিও উঠেছে। একবারের বর্ষপূর্তি অনুষ্ঠানেই শেষ না করে জলাভূমিতে নিয়মিত ধ্যানের সুযোগ রাখার প্রত্যাশা জানিয়েছেন তাঁরা।
যেকোনো জায়গায় ধ্যান সম্ভব—প্রকৃতির শব্দে মনোযোগ দেওয়ার ধ্যান
পর্দা আর নোটিফিকেশনে দিনের বেশির ভাগ সময় কেটে যায়—এমন সময়ে চোখ বন্ধ করে দীর্ঘক্ষণ বসে ধ্যান করা নতুনদের কাছে কঠিন মনে হতে পারে। শব্দ অনুসরণ করে ধ্যান করলে সেই বাধা কমে। চিন্তা শূন্য করার চেষ্টা না করে বাতাস কোন দিক থেকে আসছে, পাখি কোন দিক থেকে ডাকছে—শুধু সেদিকে কান পাতলেই মনোযোগ ফিরে আসে বর্তমান মুহূর্তে।
প্রকৃতি সম্পর্কে শিখতে আসা কোনো পরিবেশ-শিক্ষাকেন্দ্র যে ধ্যানের জায়গা হিসেবেও কাজে লাগতে পারে, সেটিও লক্ষণীয়। শিশুকে সঙ্গে নিয়ে জলাভূমিতে আসা পরিবার, হাঁটতে ভালোবাসেন এমন মানুষ কিংবা সংগীতের মাধ্যমে মনকে বিশ্রাম দেওয়ায় অভ্যস্ত ব্যক্তিরা—সবাই সহজে এ অভিজ্ঞতায় যুক্ত হতে পারেন। ধ্যানকেন্দ্রে যাওয়া যাঁদের কাছে কঠিন মনে হয়, তাঁদের প্রথম ধ্যানের জায়গা হতে পারে কাছের জলাভূমি, বন কিংবা পার্ক। সরকারি পরিবেশকেন্দ্রগুলো নিয়মিত এমন কর্মসূচির আয়োজন করলে স্থানীয় বাসিন্দাদের দৈনন্দিন জীবনের কাছাকাছি ধ্যানচর্চার সুযোগও বাড়বে।
কুইজ, আলোকচিত্র প্রদর্শনী ও টবের গাছ বিতরণে প্রথম বর্ষপূর্তি উদ্যাপন
প্রথম বর্ষপূর্তি উপলক্ষে হাপোচন জলাভূমি বিজ্ঞানকেন্দ্র দর্শনার্থীদের সরাসরি অংশগ্রহণের জন্য নানা অনুষ্ঠানও চালু করেছে। ‘হাপোচন জলাভূমি বিজ্ঞানকেন্দ্রকে জানুন’ শীর্ষক কুইজ ১৮ তারিখ পর্যন্ত চলবে। বিজ্ঞানকেন্দ্র ও হাপোচন জলাভূমির বাস্তুতন্ত্র নিয়ে ১০টি প্রশ্নের উত্তর দিতে হবে কিউআর কোড স্ক্যান করে।
১৭ ও ১৮ তারিখে অনুষ্ঠিত হবে ‘হাপোচন জলাভূমি বিজ্ঞানকেন্দ্রের প্রথম জন্মদিনের শুভেচ্ছা’ অনুষ্ঠান। বিজ্ঞানকেন্দ্রের গত এক বছরের পথচলা নিয়ে আলোকচিত্র প্রদর্শনী, উদ্বোধন উপলক্ষে শুভেচ্ছাবার্তা লেখা এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে (SNS) ছবি দিয়ে অংশগ্রহণের অনুষ্ঠান থাকবে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছবি দিয়ে অংশ নেওয়া দর্শনার্থীদের মধ্যে প্রথম ২০০ জনকে ‘সবুজ উপহার’ হিসেবে টবের গাছ দেওয়া হবে।
